দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পারস্য উপসাগরে গত দুই দিনে হামলা বেড়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নৌ অবরোধ পুনর্বহালের হুমকির পর ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি থেকে নিজেদের তেলবাহী জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই ইরান ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরিয়ে নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের আগে তিন সপ্তাহে দেশটি মোট ৬ কোটি ব্যারেল তেল সরাতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানিয়েছে উইন্ডওয়ার্ড ইন্টেলিজেন্স।
সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রণালি দিয়ে পারাপারের সংখ্যা নেমে আসে ২৫টিতে, যেখানে আগের দিন ছিল ৪৯টি।
বুধবার জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল, ওই অঞ্চলে প্রবেশ করা জাহাজগুলো সেখানে আটকা পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা। ওই দিনের অধিকাংশ জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছিল।
প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে। তবে ইরানের তেল রপ্তানির পরিমাণ অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের চেয়ে বেশি হয়েছে।
ইরানের অর্থনীতিতে তেল রপ্তানির গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশটির রাজস্বের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে তেল বিক্রি থেকে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মঙ্গলবার ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত চীনের ক্রয় কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলেনি বলে জানা গেছে। উইন্ডওয়ার্ড ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ছায়া নৌবহরের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল চীনের পথে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: সিএনএন
/অ